ঈদুল আযহা ॥ ঈদুল আযহা 2021॥ ঈদুল আজহার বয়ান ॥ ঈদুল আযহার পিক
ঈদুল আযহা ॥ ঈদুল আযহা 2021॥ ঈদুল আজহার বয়ান ॥ ঈদুল আযহার পিক
ঈদ-উল-আযহা আলাইকুম প্রিয় পাঠক আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব ঈদুল আযহা সম্পর্কে। ঈদুল আযহা হলো মুসলিম সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় উৎসব। মুসলিমদের সর্ববৃহৎ দুটি বড় হিসাব তার ভিতরে প্রথম হল ঈদুল ফিতর আর দ্বিতীয় উৎসব হলো ঈদুল আযহা। ঈদুল ফিতর আরবি শব্দ। ঈদুল ফিতরের বাংলা অর্থ হলো:- ত্যাগ এর উৎসব। তাই আমরা মুসলমানরা প্রতিবছরই ঈদুল ফিতর উদযাপন করে থাকি। ঈদুল আযহার মৌল বিষয়বস্তু হল:- কোরবানি করা। তাই আমরা ঈদুল আজহাকে কোরবানিও বলে থাকি। ঈদুল আযহার মূল বিষয়বস্তু হল ত্যাগ করা। বাংলাদেশে ঈদুল আযহা উদযাপন করা করে তারা ফজরের আজানের পূর্বে উঠে সেমাই রান্না করে এবং তারপরে তারা ফজরের নামাজ পড়ে সেই সেমাই ফ্যামিলির সবাই আশেপাশের লোকজন মিলে খাওয়া দাওয়া করে।
তার পরবর্তী সময়ে দলে দলে সবাই ঈদগাহ ময়দানের দিকে যায় ঈদুল ফিতরের ফরজ নামাজ আদায় করার জন্য। ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার পরে সবাই তার নিজ নিজ বাড়ীতে চলে আসে এবং কোরবানি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
আরো পড়ুন.....
saudi arabia eid 2022 moon॥সৌদি আরবের ঈদের খবর আজ
যার যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়েই কুরবানী দেয়। যেসব পশু দিয়া কোরবানি দেয়া হয় তা হলো গরু , ছাগল , উট , দুম্বা , মহিষ ও ভেড়া এ সকল প্রাণী দিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করা হয়। ঈদুল আযহার কোরবানির মূলত আল্লাহর নামে দেওয়া হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
আযহার কোরবানির গোশত বন্টন করার কতিপয় নিয়ম রয়েছে যেমন কোরবানি দাতার নিজের আত্মীয় স্বজন যদি কেউ কোরবানি না দেয় তাহলে তাদেরকে এই গোস দিতে হবে। কোরবানির ঘোষের 3 ভাগ করে একভাগ নিজের জন্য রাখতে হবে নিজের আত্মীয়-স্বজন এর মাঝে বন্টন করার পর আশেপাশে গরীব মানুষকে কোরবানির গোস দিতে হবে।
মূলত মুসলিম সাম্রাজ্যের মানুষ এভাবে ঈদ-উল-আযহা পালন করে থাকে।
* ঈদুল আযহা মুসলিমদের দ্বিতীয় ওসবের আনুষ্ঠানিক নাম।
* ঈদ-উল-আযহা পালন করে মুসলিমরা।
* ঈদ-উল-আযহা ইসলামের একটি উৎসব।
* ঈদুল আযহার তাৎপর্য হলো:- আল্লাহর আদেশে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সাল্লাম তার নিজ পুত্র হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে আল্লাহর জন্য কোরবানি করার জন্য আল্লাহর তরফ থেকে আদেশ পান। কিন্তু তিনি যখন তার পুত্রকে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় কুরবানী করার জন্য পুত্রের গলায় চাকু চালায় তখন তার চোখ দুটি বন্ধ ছিল চোখ খুলে দেখে তার পুত্রের জায়গায় একটি দুম্বা রাখা, সে থেকেই মূলত কুরবানি করার প্রচলন হয়।
* ঈদুল আযহা যেভাবে পালন করা হয় তাই হলো:- ঈদের নামাজ পড়া , কোরবানি করা , সামাজিক সমাবেশ করা , খাওয়া-দাওয়া করা এবং উপহার বিনিময় করা।
* ঈদুল আযহা উদযাপন করা হয় জিলহজ মাসে।
ঈদুল আযহা আন্তর্জাতিক পঞ্জিকা তারিখে প্রতিবছর একটু ভিন্ন হয় মানে এক বছর ঈদুল আযহা উদযাপন এর 10 থেকে 11 দিন এগিয়ে আসে। ঈদুল আযহা নির্ধারণ করা হয় চাঁদ দেখে।
ঈদুল আযহার অন্য অন্য নাম
ঈদুল আযহার অন্য অন্য নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো:- যেমন ঈদুল আযহাকে বাংলাদেশ কোরবানি ঈদ বলা হয়।
* ঈদুল আযহাকে ওলন্দাজ ভাষায় offerfeest বলা হয়।
* ঈদুল আযহাকে জার্মান ভাষায় opferfest বলা হয়।
* সৌদি আরব মিশর মধ্যপ্রাচ্য বাহারান দুবাই কাতার কুয়েত সকল কান্ট্রিতে ঈদুল আজহাকে Al- Baqarah বলা হয়।
* ঈদুল আযহাকে পাকিস্তান ইন্ডিয়া বরি ঈদ বলা হয়।
* ঈদুল আযহাকে মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়া ফিলিপাইন এবং সিঙ্গাপুরে lduladha , hari raya aiduladha , hari raya haji বলা হয়।
ঈদ শব্দের অর্থ হলো:- উৎসব , উদযাপন , ছুটির দিন , আনন্দের দিন। আর আযহা শব্দের অর্থ হলো:- বলিদান বা ত্যাগ করা।
ঈদুল আযহা বা কোরবানির ইতিহাস
ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায়, যে ইসলামের রাসুল হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম কে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করেন সবচেয়ে তোমার প্রিয় বস্তুটি কোরবানির করো। হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম স্বপ্নে আদেশ পায় যে তুমি তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কোরবানি করো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এই স্বপ্ন দেখার পরে তিনি দশটি উট কোরবানি করে।
কিন্তু আবারও সে একই স্বপ্ন দেখেন। তারপরে হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম 100 টি ঊট কোরবানির করে। কিন্তু আবারও হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম একই স্বপ্ন দেখেন। হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম পরে চিন্তা করে যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু হল আমার পুত্র হযরত ইসমাইল আলাইহিস সাল্লাম।
তখন হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম ও তার প্রিয় পুত্র ইসমাইল আলা সালামকে নিয়ে আরাফার ময়দানের দিকে যান কোরবানি করার জন্য। তখন হযরত ইব্রাহিম আলাই সালাম এর পরিবারকে শয়তান বিভিন্ন ধরনের বাধা ও মূর্তিপূজায় উৎসাহিত করে। তখন হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম শয়তানের উদ্দেশ্য পাথর ছুড়ে মারেন।
সেই থেকেই হজ করতে যাওয়া হাজীগণ শয়তানের চিহ্ন স্থানে পাথর ছুড়ে মারেন। হযরত ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম যখন তার পুত্রের গলায় সরি ধরেন কোরবানি করার জন্য এবং তিনি কোরবানিও করেন কিন্তু চোখ খুলে দেখেন যে তার পুত্রের জায়গায় একটি দুম্বা রাখা ছিল। এটাই মূলত ঈদুল আজহা বা কোরবানির ইতিহাস।
ঈদুল আযহার নামাজ
ঈদুল আযহার নামাজ খোলা স্থানে আদায় করা হয়। ঈদুল আযহার নামাজ ফজরের আযানের পর থেকে জোহরের নামাজের আগ পর্যন্ত যে কোন সময় ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করতে পারবে। ঈদুল আযহার নামাজ যদি কোন কারনে না পড়তে পারে তাহলে ঈদের পরের দিন ঈদ উল আযহার নামাজ আদায় করা যাবে। ঈদুল আযহার নামাজ পড়ার পূর্বে তাকবীর পড়তে হয়।
আর এই তাকবীর পড়তে পড়তে ঈদগাহের ময়দানে যায়। ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ, ঈদুল আযহার নামাজ ওয়াজিব। ঈদুল আযহার নামাজ 6 তাকবীর এর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হয়। ঈদুল আযহার নামাজ পড়ার পর মধ্যপাড়া ইমামের জন্য সুন্নত আর মুসল্লিদের জন্য শোনা ওয়াজিব।
ঈদুল আযহা 2021
ঈদুল আযহা 2021 সালে উদযাপন করা হয় 20 শে জুলাই 2021 বুধবার। আর এই দিনেই মুসলিমরা ঈদুল আযহা উদযাপন করে।
ঈদুল আজহার বয়ান
ঈদুল আযহার দিনে যাকাত দেয়া ওয়াজিব। কিন্তু যার সামর্থ্য আছে তার। যাকাত দেওয়ার কতিপয় নিয়ম রয়েছে তা হল ঈদুল আযহার দিন যদি কোন ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে 52 তোলা রুপা আছে তার জন্য তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। অন্যথায় এই সমপরিমাণ সম্পদ যার কাছে আছে মানে জমানো টাকা আছে সেই ব্যক্তির উপর পশু কুরবানী করা ওয়াজিব। ঈদুল আযহার দিন জান মালের যাকাত দিতে হবে। এটাই ঈদুল আজহার বয়ান।
ঈদুল আযহার পিক
ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ব্যানার
ঈদুল আযহার স্ট্যাটাস
ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ত
প্রিয় পাঠক নিচে ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ত দাওয়া হল। ঈদের নামাজ দুই রাকাত। ঈদুল আযহার নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়তে হয় খোলা মাঠে। আযহার নামাজ ওয়াজিব অতিরিক্ত 6 তাকবীরের সাথে সম্পন্ন করতে হয়। ঈদুল আযহার নামাজের পর খুতবা পড়া ইমামের জন্য সুন্নত আর খুতবা শোনা মুসল্লিদের জন্য ওয়াজিব। হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমি রমজান মাসের বরকত রহমত ময় দিনগুলো কাটিয়ে আজকে ঈদের দিন দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেছি।


