মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য-

 মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য


মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য তথ্য সম্পর্কে আজকে আপনাদের সাথে কথা বলবো। পৃথিবী মানবজাতির আবাসস্থল। পৃথিবীর চারদিকে ঘিরে রয়েছে অসীম মহাকাশ। সৌরজগতের কেন্দ্রে সূর্য রয়েছে মহাকাশের গ্রহ নক্ষত্র রয়েছে পাশাপাশি চন্দ্র উপগ্রহ পৃথিবীর গ্রহ ধুমকেতু উল্কা নীহারিকা প্রভৃতি রয়েছে। ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে আমাদের এই পৃথিবী দূর-দূরান্তের সকল জ্যোতি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। এ অধ্যায়ে আমরা মহাকাশ মহাবিশ্ব সৌরজগতে পৃথিবীর ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করব।


মহাকাশ ও মহাবিশ্ব (space and universe)

সূর্য একটি নক্ষত্র চাঁদ একটি উপগ্রহ। এই আকাশের শুরু ও শেষ নেই। আদি-অন্তহীন এই আকাশকে মহাকাশ বলা হয়। মহাকাশে অসংখ্য জ্যোতিষ্ক রয়েছে। এরা সুশৃংখলভাবে নিজস্ব কক্ষপথে নির্দিষ্ট গতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে কোন কোনটার ভালো আছে আবার কোন কোনটার আলো নেই। মহাকাশের 

  1. চন্দ্র 
  2. সূর্য 
  3. গ্রহ 
  4. নক্ষত্র 
  5. ধুমকেতু 
  6. উল্কা 
  7. নীহারিকা 
  8. পালসার 
  9. কৃষ্ণবামন (black dwarf) , 
  10. কৃষ্ণগহবর (black hole) , প্রভৃতি সব কিছুই রয়েছে। 


এদের সবাইকে নিয়ে গঠিত হয়েছে মহাবিশ্ব। মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানেনা। কেউ জানেনা মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন , অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই। আবার কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। মানুষ প্রতিনিয়তই মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করছে , এর অনেক কিছুই এখনো অজানা রয়েছে এই অজানা হয়তো চিরকাল থাকবে।

নক্ষত্র (stars)

যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পায় এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় নক্ষত্রগুলো জ্বলন্ত পিণ্ড এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ প্রায় 6000 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জ্বলছে। সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না

মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য-
বিভিন্ন নক্ষত্রের অবস্থান
  1. পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। পৃথিবী ও নক্ষত্রের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না এই দূরত্ব আলোকবর্ষ একক কে মাপা হয়। 
  2. আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 3 লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। 

  1. এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলা হয়। 
  2. সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
  3. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে 8 মিনিট 19 সেকেন্ড। 
  4. সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেনটোরাই। 
পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ।


নক্ষত্রমণ্ডলী (constellation)

মেঘমুক্ত অন্ধকার রাতে আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় কয়েকটি নক্ষত্র বিশেষ আকৃতিতে মিলে জোট বেধেছে। এভাবে আমাদের পরিচিত আকৃতিতে নক্ষত্র দলকে নক্ষত্রমণ্ডলী বলে। প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর একটি নক্ষত্র দলকে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করে বিভিন্ন আকৃতি কল্পনা করে বিভিন্ন নাম দিয়েছেন। 

  1. এদের কোনটার দেখতে ভাল্লুকের মত কোনোটা শিকারির মতো। এদের মধ্য 
  2. সপ্তর্ষিমণ্ডল (great bear) , 
  3. কালপুরুষ (Orion) , 
  4. ক্যাসিওপিয়া (Cassiopeia) , 
  5. লঘুসপতষি (little bear), 
বিরহ কুকুর মন্ডল (canis major) , ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।


গ্যালাক্সি ( galaxy)

মহাকাশের গ্রহ নক্ষত্র ধূলিকণা ধূমকেতু ও বাষ্প কুন্ডের এক বিশাল সমাবেশকে গ্যালাক্সি বা নক্ষত্র জগত বলা হয়। মহাকাশে একশত বিলিয়ান গ্যালাক্সি রয়েছে।

মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য-
গ্যালাক্সির ছবি
এদের বিভিন্ন আকার ও আকৃতি রয়েছে তবে এদের অধিকাংশই সর্পিলাকার বা উপবৃত্তাকার। সর্পিলাকার গ্যালাক্সিগুলো বৃহৎ আকৃতির এবং উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সিগুলো বেশি উজ্জ্বল। এরা পরস্পর ব্যাপক ব্যবধানে অবস্থিত কোন একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ বলে।









নীহারিকা (nebulae)

নীহারিকা হলো মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকা'র আস্তরন। এদের আকার বিচিত্র। কিছু নীহারিকার দেহ গ্যাসীয় পদার্থের পূর্ণ। এদেরকে গ্যাসীয় নীহারিকা বলে। একটি নীহারিকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাপক। 

এক-একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে। এরা যেহেতু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে, তাই এদের মাঝে যেসব নক্ষত্র রয়েছে তাদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় না।


ছায়াপথ (milky way)

ছায়াপথ হলো কোন একটি গ্যালাক্সির দ্র অংশকে ছায়াপথ আকাশগঙ্গা বলে। অন্ধকার আকাশে উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মত দেখায়। একটি ছায়াপথ লক্ষ-কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি। শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড়সড় যুক্ত তেজোদীপ্ত দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়। 

তারকাখচিত এই আলোর পথে হলো ছায়াপথ বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মন্ডল বলে অনুমান করেন। গুরু জগত এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত।


উল্কা ( meteor)

রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় মনে হয় যেন নক্ষত্র ছুটে যাচ্ছে বা কোন নক্ষত্র যেন এইমাত্র খসে পরলো। এই ঘটনাকে নক্ষত্র পতন বা তারাখসা বলে এরা কিন্তু আসলে কোন নক্ষত্র নয় এদের নাম উল্কা।
মহাশূন্য অজস্র জট পিণ্ড ভেসে বেড়ায়। এই জট বিন্দুগুলো অভিকর্ষ বলের আকার শুনে প্রচন্ড গতিতে সেকেন্ডে প্রায় 3 কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে এরা জ্বলে ওঠে। ফলে এদের জ্বলন্ত তারা বলে মনে হয় বেশিরভাগ উল্কাপিণ্ড আকারে বেশ ক্ষুদ্র।


ধুমকেতু (comet)

মহাকাশে মাঝে মাঝে এক প্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে। একটি মাথা ও একটি লেজ আছে এইসব জ্যোতিষ্ক কে ধুমকেতু বলে। ধুমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক।

মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য-
ধূমকেতুর ছবি
  1.  সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস   হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উধাও হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। 
  2. সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রম করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়। 
  3. এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এর লম্বা হতে থাকে। 
  4. এরা অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে অনেক বছর পর পর এরা আবির্ভূত হয়। 
  5. জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধুমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়। হ্যালির ধূমকেতু 240 খ্রিস্টাব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে  ধূমকেতু দেখা গেছে।


গ্রহ (planet)

মহাকাশে কতগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পথ পরিক্রম করে। এদের নিজেদের কোনো আলো বাতাস নেই। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এরা সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায়। এই তাপেই উত্তপ্ত হয়। এরা তারার মতো মিটমিট করে জ্বলে না। এইসব জ্যোতিষ্ক কে গ্রহ বলে। আমাদের সৌরজগতের আটটি গ্রহ 

  1. ব শুক্র পৃথিবী মঙ্গল বৃহস্পতি শনি ইউরেনাস নেপচুন ।


উপগ্রহ (satellite)

কিছু কিছু জ্যোতিষ্ক গ্রহকে ঘিরে আবর্তিত হয় এদের উপগ্রহ বা চাঁদ বলে। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা গ্রহ কে কেন্দ্র করে ঘোরে। নিজস্ব আলো বা তাপ নেই। এরা সূর্য বা নক্ষত্র থেকে আলো বা তা পায়। চাঁদ পৃথিবী গ্রহের একমাত্র উপগ্রহ। কোন কোন গ্রহের উপগ্রহ আছে কোনটির নেই। বুধ ও শুক্রের কোন উপগ্রহ নেই। জ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন উপগ্রহ আবিষ্কৃত হচ্ছে।

কৃত্রিম উপগ্রহ: মানুষের তৈরি বিভিন্ন উপগ্রহ আছে যারা পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস তথ্য আদান-প্রদান গোয়েন্দা নজরদারি খনির সম্পদের সন্ধান পরিবেশ দূষণ নির্ণয় ইত্যাদি কাজে এইসব কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।

WRITTEN BY

A Blogger, Author and a Youtuber! Technology News Writer, has been with Ajker IT since 2022.

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url