রোমানিয়া থেকে ইতালি কিভাবে যাওয়া যায়॥ লিবিয়া থেকে ইতালি কিভাবে যায়
রোমানিয়া থেকে ইতালি কিভাবে যাওয়া যায়
রোমানিয়া থেকে ইতালি কিভাবে যায় সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করব প্রিয় পাঠক। বাংলাদেশ থেকে কাজের জন্য এশিয়ার যেকোনো কান্ট্রিতে অল্প খরচে সহজেই দেশে পাওয়া যায়। কিন্তু ইউরোপের যেকোনো কান্ট্রিতে যেমন গ্রীক , রোমানিয়া , ইতালি , ফ্রান্স , নরওয় , এসকল কান্ট্রিতে যাওয়ার জন্য ভিসা সহজে পাওয়া যায় না।
এ ধরনের আরও কিছু কান্ট্রি রয়েছে যেমন জাপান , জার্মান , আমেরিকা , কানাডা , সিঙ্গাপুর সকল কান্ট্রিতে কাজের জন্য ভিসা সহজে পাওয়া যায় না বা অন্য কোন ভাবে পাওয়া গেল তার মূল্য থাকে অনেক বেশি যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব না তাই আমাদের দেশের মানুষ অনেক সময় অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার জন্য পাড়ি জমায় সেই সময় মৃত্যুর ফাঁদে পড়ে।
বাংলাদেশের শত শত মানুষ এইভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার জন্য পাড়ি জমায়। কিন্তু কিছু কিছু সময় সমুদ্রের সেই ভয়াবহ ঝড় তাদেরকে গ্রাস করে। অনেক সময় আমরা টিভি চ্যানেলের খবর পত্র-পত্রিকায় দেখতে পাই যে অনেক মানুষই ইতালি যাওয়ার জন্য সমুদ্রপথে যখন পাড়ি জমায় তখন মারা গেছে।
আরো পড়ুন......
আমরা হয়তো বলার সময় দালালদের হাত ধরে রোমানিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে থাকি। তখনকার আমাদের চোখে একটাই স্বপ্ন থাকে যে আমরা ইতালি যাবো। কিন্তু এটা আমরা কখনোই ভাবি না যে দালালের হাত দরে যাওয়াটা অনেকটা বিপদজনক।
কারণ এরকম অনেক সোনা গেছে যে দালাল চক্র মানুষদের রোমানিয়া থেকে ইতালি নেওয়ার জন্য অল্প কিছু টাকা নেয়। পরবর্তীকালে তাদের কে বন্দী করে মুক্তিপণের জন্য আরও অনেক বেশি টাকা চায় যা হয়তোবা অনেকের ক্ষেত্রেই বহন করা সম্ভব হয়না।
সেই সকল মানুষ সেখানেই ধুকে ধুকে মরতে হয় আর যারা হয়তোবা টাকা দেয় তাদের বাড়ির শেষ সম্বলটুকু মানে ভিটেবাড়ি যতটুকু জমি থাকে সব কিছু বিক্রি করে ও দালালদের টাকা দিতে হয়। আমরা আমরা সবাই জানি যে গাড়ি লঞ্চ এক্সিডেন্ট করে কিন্তু তারপরও তো মানুষ সেগুলোতে ওঠে এবং যাতায়াত করে।
তাই যতই অবৈধ পথে মানুষ বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হোক না কেন তার পরও মানুষ বিদেশ যায়।
রোমানিয়া কিভাবে যাওয়া যায়
আপনাকে বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া যেতে হলে কোন কিসের মাধ্যমে রোমানিয়া যেতে হবে তা কাজের ভিসা হোক বা স্টুডেন্ট ভিসা।
এটা কখনোই সম্ভব না বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া অবৈধ যাওয়া। কোন দালাল চক্র যদি আপনাকে বলে বাংলাদেশ থেকে তোমাকে রোমানিয়া নিয়ে যাব অবৈধপথে তুমি এত টাকা দেও।
তা আপনারা কখনই দিবেন না কারন পরবর্তীকালে আপনাকে বন্দী করে মুক্তিপণের জন্য আপনার কাছে বড় অঙ্কের টাকা চাইবে।
রোমানিয়া থেকে ইতালি কিভাবে যায়
আপনি রোমানিয়া যাওয়ার পরে সেখানে এক থেকে দেড় বছর থাকতে পারেন কারণ। এক থেকে দেড় বছর থাকার পর সেখানকার সরকার আপনাকে একটা ভ্যালিট পেপার দিবে এই পেপার এর মাধ্যমে আপনি ইতালি যেতে পারেন।
কারণ এই ব্যাপারে লেখা থাকে যে আপনি রোমানিয়ার সকল স্থানে কাজ করতে পারবেন। আরো লেখা থাকে রোমানিয়ার পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশে আপনি কাজ করতে পারেন।
তা না করে আপনি যদি অবৈধ পথে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে দালাল চক্রের হাতে আপনি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। অবৈধভাবে যাওয়াটা একেবারে বেআইনি আর অবৈধভাবে গেলে আপনার জীবন অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।
কাজাখস্তান থেকে কিভাবে রোমানিয়া যাওয়া যায়
আপনাকে কাজাখস্তান থেকে রোমানিয়া যেতে হলে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানের কাজের ভিসা গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীকালে কাজাকিস্তান যাওয়ার পরে। কাজাকিস্তানের থেকে দুই বছর থাকার পরে আপনাকে ব্যাঙ্কিং ট্রানজেকশন বাডাতে হবে।
যেমন আপনি একজনকে টাকা সেন্ড করলেন তারপরে সেই ব্যক্তি আপনাকেও টাকা সেন্ড করলো। এই পন্থা অবলম্বন করে আপনার ব্যাঙ্কিং ট্রানজেকশন বাডানোর পর রোমানিয়া যাওয়ার জন্য আপনাকে টুরিস্ট ভিসার এপ্লাই করতে হবে।
আপনি এইভাবে কাজাখস্তান থেকে রোমানিয়া যেতে পারেন। বর্তমানে কাজাকিস্তান থেকে রোমানিয়া অবৈধ পথে না যাওয়াই ভালো। কাজাখস্তান ও রোমানিয়ার বর্ডার গার্ড গুলো অনেকটাই সতর্ক।
কারণ বর্ডারের আশেপাশে কাউকে দেখলেই তারা গুলি করে দেয়। কিছুদিন আগে একটি ঘটনা কাজাখস্তানের বর্ডার এর আশেপাশে কিছু রহস্যজনক লোকজনকে দেখতে পায় তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে তাতে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়। এসব কারণেই অবৈধভাবে রোমানিয়া না যাওয়াটাই ভালো।
লিবিয়া থেকে ইতালি কিভাবে যায়
আমরা হয়তো বা অনেক সময় লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য সমুদ্র পথে পাড়ি জমাই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লিবিয়া থেকে ইতালি সমুদ্রপথে যাওয়ার জন্য পাড়ি জমায় বাংলাদেশি ও ইন্ডিয়ানরা। আমরা প্রথমে লিবিয়া যায় কাজের ভিসায় সেখানে যাওয়ার পর।
আরো অনেক বেশি অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে কিছু দালাল চক্রের মাধ্যমে সাগর পথে পাড়ি জমাই ইতালি। ইতালি ও লিবিয়ার মধ্যবর্তী সাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর। আর এই সাগর পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম সাগর। এই আটলান্টিক মহাসাগর যখন উত্তাল হয় তখন সমুদ্রে থাকা শত মানুষের জীবন কেড়ে নেয়।
তাই প্রতিবছরই কমবেশি শোনা যায় যে লিবিয়া থেকে ইতালি পারি জমানোর সময় বাংলাদেশি ইন্ডিয়ান মানুষ মারা গেছে। আটলান্টিক মহাসাগরের তিনদিকে অনেকগুলো কান্ট্রি রয়েছে তাই অনেক সময় খবর শোনা যায় যে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী লাশ পেয়েছে সমুদ্রে।
অনেক সময় সার্বিয়া থেকে অবৈধ পথে ইতালি ফ্রান্স এসকল কান্ট্রিতে দালালরা নিয়ে যায় কিন্তু এগুলো অনেক ভয়াবহ। কারণ দালালরা ট্রাকে করে নিয়ে যায় কিন্তু ট্রাকের ব্যাংকাররে যেখানে তিন থেকে চারজন মানুষ থাকতে পারবে সেই স্থানে 10 থেকে 12 জন মানুষ ঢুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
তখন মানুষ অনেক সময় অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। তাই আমাদের উচিত যে বৈধ পথে ইউরোপের যেকোনো কান্ট্রিতে ঢোকা।
লিবিয়া থেকে মাল্টা কত কিলোমিটার
লিবিয়া থেকে মালদার দূরত্ব 1099 কিলোমিটার। মালটা হলো একটি দ্বীপ রাষ্ট্র।
দালালরা ইতালি ফ্রান্স কিভাবে নিয়ে যায়
দালালরা আপনাকে অনেক লোভ দেখাবে যে ইউরোপে যাওয়াটা অনেক সহজ বা কম টাকা লাগে। তাদের কথায় আপনার মনে হবে যে ইউরোপে যাওয়া অনেক সহজ বা পথে কোন সমস্যা হবে না। দালালরা আপনার কাছ থেকে অল্প টাকা নেবে তারা বিভিন্ন দেশের বর্ডার গার্ডের কাছে চুক্তি করে মানে ঘুষ দিয়ে আপনাদের পারাপার করবে।
কিন্তু এমনো কোন স্থানে নিয়ে যাবে সেখান থেকে আপনারা ফিরে আসতে পারবেন না। নিয়ে যাওয়ার পরে আপনাদের জিম্মি করে পাসপোর্ট সকল কাগজ পাতি আপনাদের কাছ থেকে নিয়ে নেবে এবং আপনার ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যাবে।
পরবর্তীকালে আপনার ফ্যামিলিকে ফোন করে মুক্তিপণের জন্য বড় অঙ্কের টাকা দাবি করবে যদি আপনি দিতে পারেন তাহলে আপনাকে নিয়ে যাবে। তা না হলে ওই স্থানে আপনাকে বন্দি করে রেখে দেবে তা না হলে মেরে ফেলবে এরকম অনেক সময় শোনা যায়।
দালালরা আপনাকে বন্দী করে আপনাকে খাবারের কষ্ট দিতে পারে ততক্ষণ পর্যন্ত না আপনার ফ্যামিলি টাকা দিচ্ছে। দালালরা বর্ডার গার্ডের ডিউটি অবস্থায় যে গার্ড থাকে তাদের সাথে চুক্তি করে মানুষদের পাচার করে বিভিন্ন ট্রাকের ভেতর ঢুকিয়ে নিয়ে যায়।
অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার সময় ধরা পড়লে কি হতে পারে
প্রথমত অবৈধভাবে ইউরোপের যেকোনো কান্ট্রিতে যেতে হলে আপনাকে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। যেমন দালালদের খপ্পরে পড়তে হবে আপনি ইউরোপে যাওয়ার সময় যে কান্ট্রি গুলোর উপর থেকে যাবেন সেখানকার বর্ডার গার্ডের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবেন।
আপনি যদি ধরা পড়েন তাহলে আপনার জেল হতে পারে 6 মাস বা দুই থেকে তিন বছর। আরো সমস্যা রয়েছে যেমন ইউরোপে যাওয়ার পথে কিছু বড় বোন চালের উপর থেকেই যেতে হয় তখন হয়তোবা আপনি ঠান্ডায় মারা যেতে পারেন।
অনেক সময় দালালরা নদীপথে বোটে মানুষদের পাচার করে। আমরা হয়তোবা অনেক সময়ে শুনি ইউরোপে যাওয়ার পথে ট্রলার ডুবিতে মারা গেছে এখানে আপনাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। তাই আমরা সবাই এভাবে অবৈধপথে না যে বৈধপথে যাওয়াটাই ভালো।
প্রিয় পাঠক আশা করি আমার এই পোস্টটি আপনারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
