মহাকাশ সম্পর্কে ১০ টি অজানা তথ্য যা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন
মহাকাশ সম্পর্কে 10 টি অজানা তথ্য যা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন
মহাকাশ সম্পর্কে 10 টি অজানা তথ্য নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। মহাকাশ সম্পর্কে হয়তোবা আমরা অল্প কি জানি। মহাকাশের কোন শেষ বা সীমারেখা নাই।
মহাকাশ নিয়ে আজও পর্যন্ত যত বিজ্ঞানী গবেষণা করে ততবেশি অজানা তথ্য সংগ্রহ করেন। আজ পর্যন্ত কোন মহাকাশ বিজ্ঞানের বলতে পারেনা যে মহাকাশের কোন সীমারেখা নেই।
আমারা যখন দিনের বেলায় আকাশের দিকে তাকাই তখন মহাকাশ সম্পর্কে জানার ইচ্ছে জাগেনা। যখন আমরা রাতের আকাশের দিকে তাকাই তখন তারকারাজি দেখে মহাকাশ সম্পর্কে জানার কৌতূহল জাগে।
মূলত মহাকাশ মানে পৃথিবীর বাইরের জগত কে বুঝায়। মহাকাশে কনার ঘনত্ব খুবই কম।
মহাকাশের কনা মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের প্লাসমা দিয়ে তৈরি হয়। মহাকাশে আরো কিছু রয়েছে যেমন( নক্ষিত্রও চুম্বক) (তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ) (মহাজাগতিক ধুলি) মহাজাগতিক রশ্মি ও নিউট্রিনো রয়েছে। মহাকাশের ছায়াপথের মধ্যবর্তী প্লাজমা মহাবিশ্বের অর্ধেক বেরিয়ানজত পদার্থ গঠন করে।
বেরিয়ানজাত পদার্থের সংখ্যা ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে এক হাইড্রোজেন পরমাণু অপেক্ষা কম এবং এর তাপমাত্রা অনেক লক্ষ কোটি কেলভিন হয়ে থাকে। মহাকাশের উচ্চতা পৃথিবীর উচ্চতম স্থান থেকে মাপা হয় না।
মহাকাশের উচ্চতায় নির্ধারণ করা হয় সমুদ্রের তলদেশ থেকে। সমুদ্রের তলদেশ থেকে 100 কিলোমিটার (62 মাইলকে) কামা্ন রেখা বলে।
মহাকাশ সম্পর্কে দশটি তথ্য নিচে দেওয়া হল
(১) আমরা হয়তোবা সবাই জানি যে চাঁদে মানুষ গিয়েছেন কিন্তু দ্বিধা দ্বন্দ্ব রয়েছে। সত্যিই যদি চাঁদে মানুষ যেয়ে থাকে তাহলে তার পায়ের ছাপ 10 কোটি বছর পরও চাঁদের বুকে পাওয়া যাবে। কারণ চাঁদের কোন বায়ুমণ্ডল নেই সেখানে কোন বৃষ্টি হয় না ও বাতাস নেই তাই পায়ের ছাপ মুছে যাবে না।
(২) আমাদের প্রতিদিন আলো দিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন সেই সূর্যকে নক্ষত্র বলে। সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রা 5778 ডিগ্রি সেলসিয়াস। বন্ধুরা মহাকাশে এমন আরও একটি নক্ষত্র আছে যার উপরিভাগের তাপমাত্রা 28 ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এই নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে 47 আলোকবর্ষ দূরে। এক আলোকবর্ষ মানে এক বছরে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে। আলো প্রতি সেকেন্ডে 3 লক্ষ কিলোমিটার (১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল) অতিক্রম করে।
(৩) আপনারা হয়তো জানেন না আমরা যে গ্যালাক্সিতে বসবাস করি তার নাম মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি। পৃথিবী থেকে এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির দূরত্ব 52 হাজার আলোকবর্ষ। এক আলোকবর্ষ সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের গ্যালাক্সির বাইরের জগত ঘুটঘুটে অন্ধকার।
(৪) আমরা পৃথিবী থেকে সূর্য কে দেখে মনে হয় যেন সূর্য অনেক আছে কিন্তু না সূর্য আমাদের থেকে অনেক দূরে। সূর্যের প্রকৃত রং কি এ সম্পর্কে আজ ও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নয়। সূর্যের রং পৃথিবী থেকে হালকা লাল আকারে দেখা গেলেও মহাকাশ থেকে সূর্য সাদা বিন্দুর মত দেখা যায়।
(৫) আমাদের মনে হয়তোবা না অনেক সময় ইচ্ছে জাগে যে একটু আকাশে উড়তে পারতাম কোনো যান্ত্রিক সাহায্য ছাড়া।
আপনার এই ইচ্ছা পূরণ করতে হলে যেতে হবে মহাকাশের শনি উপগ্রহ তে কারণ সেখানে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব এত বেশি যে আপনি দুই হাত দিয়ে উঠতে পারবেন।
(৬) মহাকাশে রাশিয়ার কিছু বিজ্ঞানীরা আরশোলা জন্ম দেন। মহাকাশে আরশোলা জন্ম নেওয়ার পর তারা অবাক হয়ে যান ।পৃথিবীতে যে আরশোলা জন্ম নেয় তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল মহাকাশে জন্ম নেওয়ার আরসোলা।
(৭) আপনারা হয়তো জানেন না গ্রহাণু আপোফিস সম্পর্কে ।অ্যাপোফিস গ্রহাণুটি 5 ই মার্চ 2021 সালে 77 হাজার কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর কাছ থেকে চলে যায়। চাঁদ থেকে পৃথিবী যতটা দূরে তারচেয়েও ৪৪ গুন দূরত্ব বজায় রেখে গ্রহাণু অ্যাপোফিস চলে যায়।
গ্রহাণু অ্যাপোফিসের আয়তন ছিল 1000 ফুট (300 মিটার)। গ্রহাণু অ্যাপোফিস আবার 8 বছর পর ফিরে আসবে তখন পৃথিবী থেকে ১৯ হাজার মাইল (31 হাজার কিলোমিটার) এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
(৮) মহাকাশে এমন একটি গ্রহ রয়েছে যে গ্রহটি হীরের তৈরি। গ্রহটিকে হীরের তৈরি বলার একমাত্র কারণ হল গ্রহটিতে প্রচুর পরিমাণে হীরা আছে। মূলত গ্রহটি কার্বন দিয়ে তৈরি।
গ্রহটির কার্বন যখন নিঃশেষ হয়ে যায় তখন হীরায় পরিণত হয়। এই গ্রহটির নাম (55 ক্যানক্রি "ই")গ্রহটি পৃথিবীর চেয়ে ৮ গুণ ভারী আর দ্বিগুণ বড়। গ্রহটিতে মানুষ বসবাস করতে পারবে না।
(৯) আমরা হয়তো বা জানি পৃথিবীর বাইরে কোনো পানি নেই কিন্তু না। পৃথিবীর বাইরে 10 বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে জলীয়বাষ্পের মেঘের সন্ধান পায় বিজ্ঞানীরা।
যেহেতু আমরা জানি এক আলোকবর্ষ যেতে মানুষের ২ হাজার বছর সময় লাগবে সেহেতু এই পানি আনা সম্ভব না। ভবিষ্যতে যদি কোন এডভান্স টেকনোলজির যান তৈরি হয় তাহলে সম্ভব হতেও পারে।
(১০) আমরা হয়তো বা জানিনা মানুষের তৈরি কোন যান পৃথিবীর কতটুকু দূরে গেছে। মানুষের তৈরি ভয়েজার-ওয়ান একটি স্যাটেলাইট এটি আমাদের সৌরজগতের নক্ষত্র এলাকায় পৌঁছাতে 22 বিলিয়ন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
সৌরজগতের অনন্ত নক্ষত্র এলাকায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে 42 বছর। পৃথিবী থেকে সৌরজগতের একদিকে যেতে মানুষের সময় লাগবে প্রায় ২২ হাজার বছর।
উপরে উল্লেখিত মহাকাশের তথ্য গুলি হল ধূলিকণার মতো কারণ মহাকাশ এতটাই বিশাল যার কোন শেষ নাই।

