পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি॥টবে পেঁপে চাষ পদ্ধতি॥পেঁপে গাছের রোগবালাই
পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি
প্রিয় পাঠক পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি নেই আপনাদের সাথে আজকে আলোচনা করব। পেঁপে একটি ভিটামিন যুক্ত ফল। পেঁপে পৃথিবীর ভিতর একটি পরিচিত ফল প্রতিটি কান্ট্রির মানুষের চেনে। পেঁপে বাংলাদেশের সব জায়গায় চাষ করা যায়। পেঁপে মানুষের শরীলের অনেক রোগ প্রতিরোধ করে। পেঁপে মানুষ দুই ভাবে খায়। একটা হল পাকা পেঁপে মানুষ পেঁপে পাকিয়ে খায়। আর অন্যভাবে পেঁপে খাওয়ার সিস্টেম হল কাঁচা পেঁপে রান্না করে খাওয়া যায়। পৃথিবীর অনেক মানুষই পেঁপে রান্না করে খায়।
রাজশাহী নাটোর যশোর ও পাবনা শহর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁপে চাষ করা হয়। পেঁপে অত্যন্ত পুষ্টিসম্পন্ন একটি ফল। পেঁপে এমন একটি ফল যা অল্প সময়ের ভিতর ফল ধরে। আর পেঁপে চাষ করার জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়না।
পেঁপে অল্প জায়গা হলেও চাষ করা যায়। পেঁপে গাছ যেকোনো জায়গায় লাগাতে পারেন। যেমন বাড়ির উঠানে বা বাড়ির আঙিনায় পেঁপে চাষ করতে পারেন। বাড়ির উঠানে তিন থেকে সাড়ে চারটা গাছ লাগালে সারা বছর ধরেই ফল পাওয়া যাবে।
পেঁপে ফলে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে
আমরা হয়তোবা অনেকেই জানিনা পেঁপে ফলে কি কি ধরনের ভিটামিন রয়েছে। ভিটামিন বি , ভিটামিন এ , ভিটামিন সি এই সবগুলোই ভিটামিন পেঁপে ফলে রয়েছে।
* খাওয়ার উপযুক্ত প্রতি 100 গ্রাম ফলে 0.6 গ্রাম খনিজ রয়েছে।
* একটি পাকা পেঁপেতে 6.4 শতাংশ পানি রয়েছে।
* একটি পাকা পেঁপেতে 0.9 গ্রাম আমিষ রয়েছে।
* পাকা পেঁপেতে 0.6 গ্রাম ফাইবের রয়েছে।
* একটি পাকা পেঁপেতে 0.2 গ্রাম ফ্যাট রয়েছে।
* একটি পাকা পেঁপেতে 31 মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে।
* একটি পাকা পেঁপেতে 6.3 গ্রাম চিনি রয়েছে।
* একটি পাকা পেঁপেতে ভিটামিন এ থাকে 0.03 গ্রাম।
* একটি পাকা পেঁপেতে ভিটামিন সি থাকে 8100 মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন।
* একটি পাকা পেঁপেতে ভিটামিন রয়েছে 2056.5 মিলিগ্রাম।
একটি কাঁচা পেঁপে তে কি কি ওষুধে কাজ করে
একটি কাঁচা পেঁপেতে যে সকল রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে তা নিম্নে দেয়া হল। একটি কাঁচা পেঁপে পেটে বদহজম হলে তা হজম করতে সাহায্য করে। একটি কাঁচা পেঁপে মানুষের পেটের কৃমি সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
একটি কাঁচা পেঁপে মানুষের আলসার হলে তা কমাতে অনেক ভূমিকা পালন করেন। একটি কাঁচা পেঁপে মানুষের কিডনির সমস্যা হলে কমাতে কিছুটা হলেও সাহায্য করে। একটি কাঁচা পেঁপে মানুষের যদি ক্যান্সার হয় তা কমাতে অনেকটা সাহায্য করে। একটি কাঁচা পেঁপে মানবদেহের রোগ নিরাময়ে অন্যতম একটি ঔষধি ফল।
পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি
পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো আশা করি আমি যে নিয়ম-কানুন নিচে বর্ণনা করব তা থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। পেঁপের বিভিন্ন ধরনের জাত রয়েছে তবে আজকে আপনাদের সাথে পেঁপের উচ্চ ফলনশীল জাত নিয়ে আলোচনা করব।
1999 সালে বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট শাহীন নামের একটি উচ্চ ফলনশীল পেঁপে চারা উদ্বোধন করেন। শাহী নামের উচ্চ ফলনশীল পেঁপে গাছের সর্বোচ্চ উচ্চতা হয় 1.5 থেকে 2 মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। শাহী জাতের পেঁপে গাছে মোটামুটি একটু বড় হলেই পেঁপে ধারণ করে।
শাহী জাতের পেঁপে গাছের পেঁপে ডিম্বাকৃতি হয়ে থাকে। পারিজাতের পেঁপে গাছের পেঁপের ওজন হয় সর্বনিম্ন 150 গ্রাম থেকে 650 গ্রাম পর্যন্ত হয়। শাহী উচ্চ ফলনশীল পেঁপে গাছে একটা পেঁপেতে 400 থেকে সাড়ে 400 বেশি হয়।
শাড়ি জাতের উচ্চফলনশীল পেঁপে গাছে কমপক্ষে 70 থেকে 90 টি পেতে হয়। শাহী জাতের পেঁপে অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে। শাহী জাতের উচ্চফলনশীল পেঁপে গাছ বাংলাদেশের যে কোন অঞ্চলে রোপন করা যায়।
পেঁপে গাছের জন্য জমি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কারণ পেঁপে গাছ যে স্থানে পানি সারা বছর থাকে সেখানে রোপন করা যাবে না। চাষ করতে হলে একটু শুকনো ভূমিতে চাষ করতে হবে। পেঁপে চাষের জমি বিছানা সিস্টেমের হতে হবে।
তাহলে জমির পানি সেচ করা যাবে অতি দ্রুত। পেঁপে গাছের প্রতিটি লাইনের মাঝে একটু গভীর করে খাদ বানিয়ে নিতে হবে তাহলে পানি সেচ করতে অনেক সুবিধা হবে। পেঁপে গাছের চারাগুলো দেড় থেকে দুই হাত দূরে রোপন হবে।
পেঁপে চারা তৈরি করার পদ্ধতি
পেঁপে চারা তৈরি করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে তার ভিতরে ধরনের পদ্ধতি আপনাদের সাথে আজকে আলোচনা করবে। পেঁপে চারা আপনারা পলিথিনে ও তৈরি করতে পারেন।
সর্বনিম্ন ছোট একটি পলিথিনের আপনারা তিন থেকে চারটি পেঁপের বীজ রোপণ করতে পারেন। ওই পেঁপের বীজ গুলো থেকে যে গাছ হবে তা সতেজ হবে। পেঁপে চারা তৈরির ক্ষেত্রে পেঁপের বীজ গুলো মাটির ভিতরে একটু গভীরে ঢুকিয়ে দিতে হবে।
পেঁপের বীজ রোপণের ক্ষেত্রে পলিমাটির অল্প কিছু আর কিছু বালি পচে যাওয়া গোবর মিশ্রন করতে হবে। পেঁপের বীজ বপনের পর দুই থেকে তিন দিন পর পর পানি দিতে হবে।
পেঁপের বীজ রোপণের পর ১৫ থেকে 20 দিন পর মাটি ফুঁড়ে পেঁপে গাছের কান্ড বের হবে। 35 থেকে 40 দিন পর পেঁপে চারা রোপণের উপযুক্ত হবে। পেঁপে চারা রোপণের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ আপনার নিজের ওপর নির্ধারিত।
কারণ আপনি প্রতি হেক্টরে সাড়ে সাত হাজার চারা রোপণ করতে পারেন। আমরা হয়তো বা জানি অনেকেই যে চারা রোপন করার পর সব গাছটিকে না হয়তোবা কিছু মরে যায়। 1 হেক্টর জমিতে পেঁপের বীজ দরকার সাড়ে 350 গ্রাম থেকে সাড়ে 400 গ্রাম।
পেঁপে গাছের রোগবালাই
অন্যথায় হাইব্রিড পেঁপের বীজ রোপণের ক্ষেত্রে 150 থেকে 200 গ্রাম প্রয়োজন। চারা রোপণের 10 থেকে 15 দিন আগে গত্ তৈরি করতে হবে। প্রতিটি গাছে 15 কেজি করে পঁচা গোবর দিতে হবে।
দিতে হবে 20 গ্রাম জিংক সালফেট সার ও 500 গ্রাম টিএসপি এবং 225 গ্রাম জিপসাম ও ২০ গ্রাম বোরিক এসিড এসবগুলো গোত্রের দিতে হবে তারপরে মাটির সাথে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপরে ওই গোত্রে কিছু পরিমাণ পানি দিতে হবে।
বীজ রোপণ করার ক্ষেত্রে আশ্বিন মাসে পেঁপের বীজ রোপণের উপযুক্ত সময়। বীজ রোপণের 40 থেকে 50 দিন পরে মাক ফাল্গুনে পেঁপের চারা রোপণ করা যায়। পেঁপের চারা রোপন করার সময় গর্তের মাটিগুলো উল্টিয়ে নিতে হবে ভালো করে মিক্স করে নিতে হবে।
পেঁপে চারা রোপণের ক্ষেত্রে গড় গভীরতা এক হাত হওয়া প্রয়োজন। পেঁপের চারা রোপন করার সময় ছাড়ার বড় পাতাগুলো ফেলে দিলে গাছ সতেজ হবে। পেঁপের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হল পড়ন্ত বিকেলে।
পেঁপে গাছে ভালো ফলন পেতে হলে সময়মতো সার দিতে হবে। প্রতিটি পেঁপে গাছে 400 থেকে 500 গ্রাম এমওপি সার ব্যবহার করতে হবে। আরো 400 থেকে 500 গ্রাম ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হবে। পেঁপে চারা রোপণের একমাস পরে 50 গ্রাম এমওপি এবং 50 গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে।
পেঁপে গাছে ফল ধরার পরে এসকল সার 100 গ্রাম করে দিতে হবে। আর যদি আপনারা দেখেন যে পেঁপে গাছের গোড়ার মাটি শুকিয়ে গেছে তাহলে একদিন বা দুইদিন পর পর পানি দিতে হবে। পেঁপে গাছের গোড়া সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। কিছু কিছু পেঁপে গাছে আমের সডার মত ফুল হয়।
তাহলে দেখা যায় তার ভিতরে কোন পেঁপে ছোট বা বড় আমাদের করা উচিত ছোট পেঁপে ছাঁটাই করে দেওয়া। মানে কেটে ফেলে দেওয়া তাহলে পেঁপের অন্য ফলগুলো অনেক বড় হবে। পেঁপে গাছে কিছু কিছু রোগ পোঁকামাকড় আক্রমন করে।
ভিতরের পাতা পচা রোগ , মোজাইক , পাতার কাল। অন্যদিকে পোকামাকড়ের বিতর হল মালিবাগ গুলি উল্লেখযোগ্য। পেঁপে গাছের কান্ড পচা রোগ দেখা দিতে পারে শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় আবার কিছু কিছু সময় বর্ষাকাল দেখা যায়।
কান্ড পচা রোগ মূলত পেঁপে গাছের গোড়ায় বাদামি কালার পানির যে দাগ দেখা যায় মূলত সেটি হলো কান্ড পচা রোগ। এই রোগ প্রতিরোধ করার জন্য আপনারা ব্যবহার করুন পেঁপে চারা রোপণের পূর্বে প্রতিপত্তি গোত্রের 3 থেকে 4 গ্রাম সিকিউর নামের ছএানামক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।
আরো দিতে হবে রিডোমিল এম জেড 2 গ্রাম ও 17 নাশক ওষুধ এক লিটার পানিতে মিশিয়ে পেঁপে গাছের আক্রান্ত স্থানে স্প্রে করে দিতে হবে।
টবে পেঁপে চাষ পদ্ধতি
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক আপনারা টবে পেঁপে চাষ করতে পারেন। পেঁপে চাষ করতে হলে প্রথমত মাঝারি আকারের কিছু টবের প্রয়োজন। পেঁপের চারা রোপণ করতে পারেন পেঁপে চারা টবে রোপন করার পূর্বে তবে কিছু পচা গোবর ও ইউরিয়া সার ও কিছু মাটি ম্যাক্স করে নিতে হবে।
