বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২ সম্পর্কে তথ্য॥ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ কি
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২ সম্পর্কে তথ্য
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২ সম্পর্কে তথ্য নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 এর উদ্বোধন নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে। কারণ এর পূর্বে স্যাটেলাইট অন মানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 1 উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান উৎক্ষেপণ করা হয় 2018 সালের মে মাসে। বন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বছর হয়ে গেছে।
![]() |
| বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 1 এর ছবি |
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান উৎক্ষেপণ এর প্রায় সাড়ে তিন বছরে তেমন একটা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়নি স্যাটেলাইট ওয়ান। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক বিদ ও স্যাটেলাইট সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা বলেন স্যাটেলাইট 1 থেকে যেহেতু তেমন একটা লাভ হয়নি তাহলে স্যাটেলাইট 2 কি দরকার।
স্যাটেলাইট অন তৈরি করা হয়েছিল ফ্রান্সে এবং উৎক্ষেপণ করা হয় আমেরিকা থেকে। তাই এবারের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 তৈরি করা হবে রাশিয়ায় এবং উৎক্ষেপণ করা হবে রাশিয়া থেকে। তাই স্যাটেলাইট 2 চুক্তিপত্র ইতিমধ্য স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট 2 স্যাটেলাইট তৈরি করতে বিশেষ এক ধরনের চিপস এর প্রয়োজন।
আর স্যাটেলাইট তৈরির জন্য যে সিক্স প্রয়োজন তার কোম্পানি আমেরিকান। রাশিয়ার ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এই আমদানির ব্যাপারে। এই নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে রাশিয়া চিপস আমদানি করতে পারছে না ।তাই স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 তৈরির কাজ বিরত রয়েছে বা অনেক কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 এর কাজ মূলত কি
এই সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। রাশিয়া জাতীয় মহাকাশ সংস্থা হল (রসকসমস) ।রসকসমস এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান যার নাম গ্লাভকসমস এর সাথে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি চুক্তিপত্র করেছে গত বুধবার। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট কোম্পানি বলেছেন যে এই রাশিয়ার (রসকসমসের) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান (গ্লাভকসমস) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 তৈরি এবং উৎক্ষেপণ সকল কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 নির্মাণে কত টাকা খরচ হবে এ বিষয়ে এখনও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনাই। সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান উদ্বোধন করা হয়েছিল 2018 সালে। সেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান এ সর্বমোট তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়।
বাংলাদেশে কোন ধরনের স্যাটেলাইট প্রয়োজন তা নির্ধারণ করার জন্য প্যারিসে আন্তর্জাতিক গবেষণা বৈঠক বসানো হয়। পরবর্তীকালে পরামর্শকদের তারা বলেন যে বাংলাদেশের জন্য একটু অবজারভেটরি স্যাটেলাইট প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট কোম্পানির চেয়ারম্যান শাহ জাহান মাহমুদ বলেন যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 এর মূল কাজ হবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর নজরদারি রাখা।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর কাজ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল মানে যেসব অঞ্চলের পাশে সাগর রয়েছে সেসব অঞ্চলের উপরে সব সময় পাহারাদারের মত চোখ রাখা। কারণ আমরা অনেক সময়ই বাংলাদেশে বন্যা কবলিত হয়। আমরাও আগে জানতে পারি না যে বন্যা কখন হবে বাক্য এর গতি আবহাওয়া সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য আমাদের কাছে আসে না।
তাই বাংলাদেশ সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট টু বাংলাদেশের বন্যাকবলিত অঞ্চল গুলোর উপর সব সময় নজর রাখতে পারবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশের কোন কোন অঞ্চলে বন্যায় কি পরিমাণ পানি হবে বা কতদিন পর পানি আসবে এই সম্পর্কে তথ্য জানা যাবে।
এছাড়া ফসলের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। বন্ধু স্যাটেলাইট 2 বাংলাদেশের উপরে সর্বক্ষণ থাকবে। আর বেশি বেশি বাংলাদেশকে প্রদক্ষিণ করবে। তবে এ স্যাটেলাইট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন লান্ এশিয়ার সেনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান। তিনি আরো বলেন যে বর্তমান যে স্যাটেলাইট আছে তা দিয়ে কি ছবি তোলা সম্ভব না সম্ভব হলে দ্বিতীয় আরেকটি স্যাটেলাইটের কি দরকার।
বর্তমানে সারাবিশ্বে ম্যাক্সাস ও প্লানেট ইন এ সকল স্যাটেলাইট সার্ভিস দিয়ে থাকে। পূর্বে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে গ্রাম পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়েছে। তার আগের ছবি এবং পরের ছবি তোলা হয়েছিল এ সকল স্যাটেলাইট। এ সম্পর্কে তিনি আরো অভিযোগ তোলেন যে বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 এমনকি সেবা দেবে যা আমাদের দরকার।
স্যাটেলাইট কর্মকর্তারা বলেন এসব তথ্য পাওয়া যেত অন্যসব স্যাটেলাইট থেকে কিন্তু সে সকল স্যাটেলাইট এর রেজুলেশন কম এবং সেগুলো টাকা দিয়ে কিনতে হতো। আমরা যদি ঘন ঘন দেখতে চাইতাম তা সম্ভব হতো না। তাই আমাদের যদি নিজেদের স্যাটেলাইট থাকে তাহলে আমরা ঘনঘন দেখতে পারবো।
সে জন্যই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 উৎক্ষেপণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল 2018 সালের মে মাসে প্রায় সাড়ে তিন বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনো সেই স্যাটেলাইট থেকে তেমন একটা লাভ হয়নি।
তাই এ সম্পর্কে লান্ এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন যেহেতু পূর্বের স্যাটেলাইট 1 থেকে তেমন একটা লাভ হয়নি তাই দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বড় ধরনের একটি বোকামি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান এর আয়ুকাল হলো 15 বছর। কিন্তু অলরেডি তিন বছর চলে গেছে।
বর্তমানে এখনো পর্যন্ত স্যাটেলাইট ওয়ান এর কোম্পানি এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি যে তাদের অধিক পরিমাণে অর্থ আয় হয়েছে স্যাটেলাইট 1 থেকে। আবু সাঈদ খান বলেন যে আমরা কিন্তু এখনো জানিনা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অন থেকে কত টাকা আয় হয়েছে বা আমরা এখনো কত টাকার ঋণ রয়েছে।
এই সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি এখনো অজানা আছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 1 এর চেয়ারম্যান শাহজাহান বলেছেন। যে আমরা স্যাটেলাইট 2 থেকে যে পরিমাণ অর্থ আশা করেছিলাম তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আমরা বহির রাষ্ট্রের যে পরিমাণ ক্যাপাসিটর বিক্রি করার আশা করেছিলাম তা করতে পারিনি।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 1 ততদিনে আমরা উৎক্ষেপণ করেছি তার ভীতর বিভিন্ন দেশ স্যাটেলাইট উত্তোলন করে ফেলেছে। আমরা যে সকল দেশের কাছে বিক্রি করতে চাইছিলাম তাদের আর প্রয়োজন নেই তাই আমাদের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান যে আমরা এখন অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করার চেষ্টায় আছি।
আশাকরি আগামী ছয় মাসের ভিতরে দেশেই ক্যাপাসিটর বিক্রি করা যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 2 তৈরি এবং উৎক্ষেপণ করবে রাশিয়া। কিন্তু এখন তা কিছুটা বিলম্ব হয়ে গেছে। কারণ স্যাটেলাইট তৈরি জন্য যে চিপস প্রয়োজন তা তৈরি করা হয় আমেরিকায়।
এটির কোম্পানি বর্তমানে আমেরিকায় সেই কোম্পানিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার জন্য অবগত করা হয়েছে। যে তোমরা সতর্ক থাকো কিছু দিনের ভিতরে হয়তবা তোমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আসবে। কারণ রাশিয়া যদি ইউক্রেনের যুদ্ধ বিরত রাখে তাহলে আমেরিকা টিপস দিবে তা না হলে কোন প্রকার চিপস দিবেনা আমেরিকা।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 1 কবে মহাকাশে প্রেরণ করা হয়
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অন মহাকাশে প্রেরণ করা হয় 2018 সালের মে মাসে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান উৎক্ষেপণ এর মাধ্যমে বিশ্বের 57 তম স্থান দখল করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান উৎক্ষেপণ সকল খরচ হয় মোট 2903 কোটি টাকা।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ কি
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 1 এর মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বেতার সম্প্রচার কার্যক্রম করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান থেকে।
বাংলাদেশের দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার 31 টি দ্বীপ এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত। এবং এই সকল দ্বীপগুলোতে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান এর কাজ এগুলোই।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর ওজন কত
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান এর ওজন হল 3.8 টন , (3700) কিলোগ্রাম , (8200) পাউন্ড। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট 1 তৈরি করা হয় ফ্রান্সে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ওয়ান এর ডিজাইন করা হয় ফ্রান্সে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অন তৈরি এবং ডিজাইন যে কোম্পানি করেছে তার নাম হলো থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস।
