বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য॥ বাংলাদেশের সড়ক পথের দৈর্ঘ্য কত

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য॥ বাংলাদেশের সড়ক পথের দৈর্ঘ্য কত

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করব প্রিয় পাঠক। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যাত্রী পণ্য পরিবহন করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে কার্যকরী অবদান রাখে। দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কাঁচামাল ও লোকজনের নিয়মিত চলাচল উৎপাদিত দ্রব্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ উৎপাদনের উপকরণ সমূহের গতিশীলতা বৃদ্ধি দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য-



বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভাবিত করে বাণিজ্যকে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা কৃষি-শিল্প প্রকৃতির ভারসাম্য আনে।

You may like also....

বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা (Transport system)

বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে আমরা বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগের মাধ্যমে এবং মালপত্র লোক চলাচলের মাধ্যমকে বুঝি।
বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা 
জলপথ (নৌপথ - সমুদ্র পথ) 

আকাশপথ (বিমান ও হেলিকপ্টার)

স্থল পথ মানে সড়ক পথ (জাতীয় মহাসড়ক আঞ্চলিক মহাসড়ক ও কাঁচা সড়ক) রেলপথ (মিটারগেজ  ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ)

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সড়ক পথ

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বন্টন দ্রুত যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সড়কপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রেলপথের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না তাই সড়কপথ থাকা প্রয়োজন। সমতল ভূমি সড়কপথ গড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। 

এজন্য ধাকা খুলনা চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে অনেক সড়কপথ গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সমুদ্র উপকূলে বন্দর গড়ে ওঠে। কোন শিল্পকে কেন্দ্র করেও অনেক সড়কপথ গড়ে ওঠে। এজন্য মংলা এবং চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শিল্প অঞ্চলের সড়কপথ গড়ে উঠেছে। 

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা:- উঁচু-নিচু ও বন্দর প্রকৃতির ভূমিরূপ এর জন্য পার্বত্য এলাকায় সড়ক পথ নির্মাণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সড়কপথ আছে কিন্তু কম। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ঢাল যুক্ত স্থানে সড়ক পথ তৈরী করা কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। 

এতে গাড়ির জ্বালানি খরচ বেশি হয় অর্থাৎ বেশি ঝাল শরবত তৈরির ক্ষেত্রে বাধাস্বরূপ। জন্য বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সড়কপথের ঘনত্ব কম। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিম্নভূমি ও নদী পূণ্য কোন অঞ্চলে বেশি কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণে খরচ বেশি। হয় এজন্য এসকল অঞ্চলে সড়কপথ গড়ে ওঠে। তাই বাংলাদেশের সিলেটের হাওর অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সর্বপ্রথম নৌপথ অগ্রাধিকার পায়।

বাংলাদেশের সড়ক পথের দৈর্ঘ্য কত

বাংলাদেশের সড়ক পথের দৈর্ঘ্য নিচে দেওয়া হল:- 

বাংলাদেশের মোট সড়ক পথের দৈর্ঘ্য ২১,৫৮৯.৬৫ কিলোমিটার। 

জেলা সড়ক ১৩,৬৫০ কিলোমিটার।

জাতীয় মহাসড়ক ৩,৬১৮.৮৯ কিলোমিটার।

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথের পরিমাণ অল্প হলেও ভারি দ্রব্য পরিবহন শিল্প কৃষি শ্রমিক পরিবহন প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের প্রধান বন্দর শহর বাণিজ্য ও শিল্প কেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ সাধন করে। 


ব্রডগেজ রেলপথ যমুনা নদীর পশ্চিমাংশের রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে 659 কিলোমিটার। ডুয়েলগেজ রেলপথ জামতৈল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত 375 কিলোমিটার। মিটারগেজ রেলপথ যমুনা নদীর পূর্ব ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে 1843 কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর দেশের বৃহত্তম রেল স্টেশন ঢাকা থেকে দেশের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ শহরের রেল যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে সর্বমোট ৪৭৪ টি রেলস্টেশন আছে।

বাংলাদেশের নৌপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের নৌপথ যোগাযোগব্যবস্থা নদীমাতৃক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নৌপথ জালের মতো ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের ভৌগলিক গঠন নৌপথের অনুকূলে। যে কারণে নৌপথ বিস্তার করেছে তা বাংলাদেশের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে তা সহজে বোঝা যায়। 


বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিম্নভূমি সহজে বন্যাকবলিত হয় ফলে সড়কপথ রেলপথ গড়ে উঠতে পারেনা। এজন্য সিলেট অঞ্চলের হাওর ও দক্ষিণ অঞ্চলের ফরিদপুর , মাদারীপুর ও বরিশাল অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

বাংলাদেশের নৌ পথ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রায় 4 হাজার 400 কিলোমিটার সারাবছর নৌ চলাচলের উপযুক্ত থাকে। অবশিষ্ট তিন হাজার কিলোমিটার শুধু বর্ষাকালে ব্যবহার করা যায়। দেশের নৌপথ যোগাযোগ ব্যবস্থায় লঞ্চঘাট আছে 380 টি। আর ফেরিঘাট 53 টি।

বাংলাদেশের সমুদ্র পথ যোগাযোগ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সমুদ্রপথ ( Ocean Shipping) গড়ে ওঠার জন্য দেশের অবস্থান অবশ্যই সমুদ্রের তীরে হওয়া প্রয়োজন। সমুদ্র থাকলেই হবে না তার ভৌগলিক কিছু বৈশিষ্ট্য দরকার যা থাকলে সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলা যাবে। 

বন্দর গড়ে উঠলে তবে সমুদ্রপথ উন্নতি লাভ করবে। পোতাশ্রয় থাকলে ঝড়-ঝাপটা সমুদ্রের ঢেউ উপবৃত্তির কবল থেকে জাহাজ রক্ষা পায়। বন্দরের উপকূলে স্থল সমুদ্র বেশ গভীর হওয়া বাঞ্ছনীয় এতে সব ধরনের আধুনিক জাহাজ বন্দরে যাতায়াত করতে পারবে। 


বন্দরে জাহাজ মেরামত ও জেটি নির্মাণের জন্য সুবিধাস্থল সমভূমি থাকা প্রয়োজন। বরফ কুয়াশা প্রভৃতি সমুদ্র যোগাযোগের বাধাস্বরূপ বাংলাদেশের উপকূলে অনুপস্থিত আর এ কারণে সমুদ্র যোগাযোগ প্রসার লাভ করেছে। 

বাংলাদেশের সমুদ্র পথ যোগাযোগ ব্যবস্থা তিনটি রয়েছে- চট্টগ্রাম মংলা ও পায়রা বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির প্রায় 85 শতাংশ এবং রপ্তানির 80% বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। মংলা বন্দর দিয়ে মোট রপ্তানির প্রায় 13% এবং আমদানির 8% বাণিজ্য সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের আকাশ পথ যোগাযোগ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের আকাশপথ যোগাযোগব্যবস্থা যাত্রী চলাচল এবং পচনশীল দ্রব্য প্রেরণাও আকাশপথের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। বাংলাদেশের আকাশপথ যোগাযোগব্যবস্থা যুদ্ধবিগ্রহ দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি জাতীয় দুর্যোগের সময় আকাশপথ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বর্তমানে আকাশপথ কে বাদ দিয়ে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ কল্পনাও করা যায় না। বাংলাদেশের আকাশপথ যোগাযোগব্যবস্থা শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনে আকাশ পথের গুরুত্ব অপরিসীম। বিমান অবতরণ এবং উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত সমতলভূমি প্রয়োজন। আকাশপথের জন্য কুয়াশা মুক্ত ও ঝড়ঝঞ্ঝা মুক্ত বন্দর প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বাণিজ্য

বাংলাদেশের বাণিজ্য মানুষের অভাব ও চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে পণ্য দ্রব্য ক্রয় বিক্রয় এবং এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলী হচ্ছে বাণিজ্য। আমাদের প্রয়োজনীয় উপাদান গুলো একই স্থানে উৎপাদন বা তৈরি হয় না যার ফলে পণ্যগুলো বন্টনের প্রয়োজন দেখা দেয় তখনই বাণিজ্যের প্রয়োজন হয়। বাণিজ্য মোট 2 প্রকার 

আভ্যন্তরীণ বানিজ্য,


বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সাধারণত গ্রাম বা হার্ট থেকে কাঁচামাল , খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয় এবং উৎপাদিত শিল্পদ্রব্য জেলা , সদর , গঞ্জ ও হাটে বন্টন করা হয়। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য দেশের চাহিদা উপভোগের সমন্বয় ঘটে। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সড়কপথ , রেলপথ ও নৌপথ। 

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যর বৈশিষ্ট্য ছিল বেশিরভাগ কাঁচামাল রপ্তানি। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজধানীর প্রায় শতকরা 75 ভাগ হচ্ছে তৈরি পোশাক ও নেটওয়ার্ক থেকে এবং দিন দিন কৃষি পণ্য রপ্তানির পরিমাণ কমে আমদানি বাড়ছে। 

বর্তমানে খাদ্যশস্য ও শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করতে হয় এবং দেখা যায় রপ্তানিতে আমদানির দ্রব্য বেশি। এইসকল বৈদেশিক বাণিজ্য চলে সমুদ্রপথে। তবে জরুরি ভিত্তিতে পচনশীল দ্রব্য আকাশপথে আনা-নেওয়া করা হয়। 

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রপ্তানির বৃদ্ধি করে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি করার লক্ষ্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এজন্য উৎপাদন বৃদ্ধি , পণ্যের মান উন্নয়ন , উৎপাদন ব্যয় কমানো , রপ্তানি শুল্ক কমানো , পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন , রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ব্যাপক প্রচার প্রভৃতি অপরিহার্য।



WRITTEN BY

A Blogger, Author and a Youtuber! Technology News Writer, has been with Ajker IT since 2022.

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url